মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রখ্যাত ব্যাক্তিত্ব

নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস:

নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাসের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৭ জুন তানোর উপজেলার গোলস্নাপাড়া গ্রামে। জনাব বিশ্বাসের বড় পরিচয়, তিনি একজন শিক্ষাবিদ। শিক্ষায় তানোরকে আলোকিত করবার ক্ষেত্রে যে কলেজের অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই আব্দুল করিম সরকার ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠিাতা অধ্যক্ষ হলেন তিনি। তাঁর শিক্ষকতা পেশার আড়ালে যে পরিচয়টি লুকিয়ে আছে, তা হল গবেষক। বিশেষ করে নরোত্তম ঠাকুরের উপর লেখা সুখপাঠ্য গ্রন্থ ‘প্রেমতলীতে প্রেমের ঠাকুর নরোত্তম’ (২০০৭) নামটি উলেস্নখযোগ্য। এরপরে তানোরকে নিয়ে লেখা প্রথম গবেষণামূলক ইংরেজি বই রচনা করেন (অবশ্য বাংলাভাষাতেও তখনও কেউ রচনা করেননি) তিনিই। বইটির নাম LEGEND AND HISTORY OF TANORE। প্রথম গ্রন্থটি অবশ্যই সাহিত্যরস পুষ্ট। পাঠক এটি পাঠ করলে সাহিত্য  রসে সিক্ত হবেন নিঃসন্দেহে। এছাড়াও তানোরের সকল সাহিত্যকর্মের সাথে তাঁর একাত্মতা চিরদিন ছিল এবং আছে।

 

আমিনুল ইসলাম :

জন্ম তানোরে না হলেও, তানোরে আবাস গড়ে সাহিত্য রসে কেউ যদি তানোরকে বর্তমানে বেশি মাত্রায় সরস করে থাকেন, তিনি আমিনুল ইসলাম। কারণ তাঁর সাহিত্য জগতের প্রচার ও প্রসার যায়-ই বলি  না কেন, তা হয়েছে তানোরে আসবার পরে। তাঁর সমসত্ম কাব্য , প্রবন্ধা ও ছড়াগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তানোরে আসবার পরেই। আমিনুল ইসলামের জন্ম চাপাই নবাবগঞ্জের পদ্মা-পাঙ্গাশমারী নদীবিধৌত টিকলীচর গ্রামের এক কৃষক পরিবারে, ২৯ শে ডিসেম্বর ১৯৬৩ সালে। তাঁর বাবা বেলায়েত আলী ম-ল এবং মাতা সাজেনুর নেসা। নদী ভাঙনে বাড়ি-ঘরসহ সর্বস্ব হারাবার পর তাঁরা স্বপরিবারে ১৯৯৯ সালে চলে আসেন তানোরে। তানোর থানা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে আইড়ার মোড় নামক স্থানে নতুন করে আবাস গড়ে তোলেন। চাকরি সূত্রে তিনি বর্তমানে ঢাকাতে অবস্থান করলেও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আইড়ার মোড়েই বসবাস করে আসছেন।

আমিনুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশের সরব কবিদের মধ্যে অন্যতম। কারণ বাংলাদেশের সব অঞ্চলের লিটলম্যাগ, দৈনিক, পাক্ষিক কিংবা মাসিকে তাঁর উপস্থিতি প্রায়শই দেখা যায়। এরই মধ্যে অনেক পত্রপত্রিকা তাঁকে নিয়ে ক্রোড়পত্র বা বিশেষ সংখ্যাও প্রকাশ করেছে। আমিনুল ইসলাম সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখবার জন্যে একাধিক সাহিত্য সংগঠন তাঁকে সম্মাননা প্রদান করেছে।

আমিনুল ইসলামের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হল: তন্ত্র থেকে দূরে (২০০২), মহানন্দা এক সোনালী নদীর নাম (২০০৪), শেষ হেমমেত্মর জোছনা (২০০৮), কুয়াশার বর্ণমালা (২০০৯), পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি ( ২০১০), স্বপ্নের হালখাতা (২০১১), জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার (২০১২)। এছাড়া প্রবন্ধের বই বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ (১০১০)। শিশুতোষ ছড়া গ্রন্থ হল: দাদুর বাড়ি (২০০৮) ও ফাগুন এলো শহরে (২০১২)।

আমিনুল ইসলামের কাব্যে বৈচিত্র্যের জন্যে বিভিন্ন প্রাবান্ধিক তাঁকে একাধিক উপাধিতে অলংকৃত করেছেন। কেউ বলেছেন শেকড় বৈভবের কবি, কেউ বলেছেন আলোকিত ভূবনের কবি, কেউ তাঁকে বলেছেন- গৌড়-বরেন্দ্রের উত্তরাধিকার, আবার কেউ বলেছে, বরেন্দ্রগতা প্রাণ ও প্রেমের কবি। আবার কেউ বলেছেন, আমিনুল ইসলামের যাত্রা যেন প্রেম-মন্দিরের দিকে। যদিও কবি নিজেও বলেছেন ‘আধুনিকতার কংক্রিটে আমি এক রোমান্টিক তৃষা’। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আমিনুল ইসলামের কাব্যসত্ত্বার অনেকখানি জুড়ে আছে আমাদের বরেন্দ্র। তানোরের এই বরেন্দ্র-বৈচিত্র বিশেষভাবে প্রভাব ফেলেছে তাঁর মননে, তাঁর সৃজনে।

 

ড. আমিনুল ইসলাম:

ড. আমিনুল ইসলামের জন্ম তানোর সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে মুন্ডুমালা পৌরসভার সাদীপুর গ্রামে, ১৯৭১ সালে। তিনি ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে আসছেন। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকা বিশেষ করে লিটলম্যাগাজিনে তাঁর কবিতা ও গল্পের উপস্থিতি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ হল: যে পথটি চলে গেছে জান্নাতের দিকে’। এছাড়া অন্যগ্রন্থ হল:. আমিনুর ইসলামের সম্পাদিত লিটলম্যাগের নাম ‘বরেন্দ্রকণ্ঠ’। প্রথম প্রকাশ ২০০৮।

আমিনুল ইসলাম বর্তমানে পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক। তিনি ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ধর্মের উৎপত্তি ও বিকাশে অলৌকিকতার প্রভাব’ শিরোনামের উপর গবেষণা করে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন।

 

মঈন শেখ:

মঈন শেখের জন্ম তানোর থানার পাড়িশো গ্রামে, ১৯৭৯ সালের ২২ শে নভেম্বর। বাবা নাজিমুদ্দিন শেখ, মা মতিজান বিবি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২, আর সম্পাদিত পত্রিকার সংখ্যা ৩।

প্রকাশিত গ্রন্থ  :  চুম্বন ঘ্রাণে আসুক মৌমাছি, ২০০৬ ( কাব্যগ্রন্থ ), পদ্যের চরকা গদ্যের বারান্দা, ২০১৭ (প্রবন্ধ সংগ্রহ) চেনটু ভূতের পাঠশালা, ২০০৮ (কিশোর উপন্যাস ), পটল ডঙার পটলা, ২০০৯ ( কিশোর উপন্যাস ), নীল পলাশ অথবা বউ বাসমত্মী, ২০১৫ (গল্পগ্রন্থ), ধান জোছনার উলিকি, ২০১৭ (গল্পগ্রন্থ), খেজুরে ভূত চশমা ভূত (কিশোর গল্প সংগ্রহ), আনন্দে শেখা শেখাতেই আনন্দ, ২০১২ (প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক), মানুষ হবার গল্প, ২০১৮ (সম্পাদনা) রাজশাহীর ছড়া, ২০০২ ( যৌথ ),  পদ্মা পাড়ের ছড়া, ২০০৪ (যৌথ),  পদ্মা পাড়ের গল্প, ২০০৭ ( যৌথ )।

সম্পাদিত পত্রিকা:  ভাস্কর ( লিটলম্যাগ ), সিঁড়ি ( লিটলম্যাগ ), বিলকুমারী, ও মহানন্দা ( ম্যাগাজিন )।

মঈন শেখ বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter